Skip to content

বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্রে যে ধারাগুলো অবশ্যই থাকতে হবে জেনে

·4 min read·by

আপনি যদি সই করার আগে ধারাগুলো পড়ে না নেন, পরে ডিপোজিট, ভাড়া বৃদ্ধি বা উচ্ছেদ নিয়ে ঝামেলা বাধে। বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্রে যে ধারাগুলো অবশ্যই থাকতে হবে, সেগুলো না থাকলে মুখের কথা আদালতে প্রমাণ করা কঠিন। অনেক ভাড়াটিয়া টাকা ফেরত পান না, কারণ শর্তটা কেউ লেখেননি।

তাই কাগজে সই করার আগে একবার ধৈর্য ধরে পড়ে নিন।

আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এক বছরের বেশি মেয়াদের ভাড়া চুক্তি Registration Act, 1908-এর আওতায় রেজিস্ট্রেশনযোগ্য। স্ট্যাম্প ডিউটি আর রেজিস্ট্রেশন ফি না দিলে দলিল আদালতে দুর্বল প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। নিচে সবচেয়ে জরুরি ধারাগুলো ধরে ধরে দেখানো হলো।

বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্রে যে ধারাগুলো অবশ্যই থাকতে হবে

ভাড়া চুক্তিতে পক্ষের পরিচিতি, সম্পত্তির বিবরণ আর মেয়াদ থাকতে হবে। ভাড়ার পরিমাণ, পরিশোধের তারিখ আর ডিপোজিটের শর্ত স্পষ্ট লিখুন। ইউটিলিটি, সার্ভিস চার্জ আর হোল্ডিং ট্যাক্স কে দেবে, সেটিও রাখুন।

মেরামত, ইনভেন্টরি, নোটিশ পিরিয়ড আর উচ্ছেদের কারণ বাদ দেবেন না। শেষে বিরোধ নিষ্পত্তি, জুরিসডিকশন আর সাক্ষীর স্বাক্ষর যোগ করুন।

ধারা ধরে ধরে: কে কী দায় বহন করবে

প্রতিটি ধারা লেখার সময় প্রশ্ন একটাই। কাজটা কে করবে, আর খরচ কে দেবে? উত্তর যত স্পষ্ট, বিরোধ তত কম।

পক্ষ, সম্পত্তি ও মেয়াদ

বাড়িওয়ালা আর ভাড়াটিয়ার পূর্ণ নাম, NID নম্বর ও মোবাইল নম্বর লিখুন। ফ্ল্যাট নম্বর, ফ্লোর, আয়তন (স্কয়ার ফিট) আর পার্কিং স্লট উল্লেখ করুন। চুক্তির শুরুর তারিখ আর শেষ তারিখ তারিখ আকারে দিন।

মালিকানা যাচাইয়ের জন্য দলিল বা খতিয়ানের তথ্যও যোগ করা যায়।

ভাড়া, ডিপোজিট ও অগ্রিম

মাসিক ভাড়ার অঙ্ক, পরিশোধের শেষ তারিখ আর মাধ্যম (নগদ, ব্যাংক বা bKash) লিখুন। সিকিউরিটি ডিপোজিট সাধারণত ১ থেকে ৩ মাসের ভাড়ার সমান। ফেরত দেওয়ার সময়সীমা আর কাটছাঁটের শর্ত আলাদা করে দিন।

ভাড়া কত শতাংশ বা কত টাকা বাড়বে, সেটিও আগেই ঠিক করে রাখুন।

ইউটিলিটি আর মাসিক খরচ

খরচের খাতসাধারণত কে দেয়চুক্তিতে যা লিখবেন
বিদ্যুৎ বিলভাড়াটিয়ামিটার নম্বর ও শুরুর রিডিং
পানি ও গ্যাসভাড়াটিয়ামিটার নম্বর, ভাগাভাগির নিয়ম
সার্ভিস চার্জভাড়াটিয়ামাসিক অঙ্ক, কী কী অন্তর্ভুক্ত
হোল্ডিং ট্যাক্সবাড়িওয়ালামালিকের নামে পরিশোধের কথা

মেরামত, ইনভেন্টরি ও নোটিশ

স্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়িওয়ালার দায়, আর ভাড়াটিয়ার অবহেলায় হওয়া ক্ষতি ভাড়াটিয়ার। তাই শুরুর অবস্থার তালিকা সংযুক্ত করুন। নোটিশ পিরিয়ড সাধারণত ১ থেকে ৩ মাস হয়।

নবায়ন, সাব-লেটিং আর উচ্ছেদের কারণ আলাদা ধারায় রাখুন। চুক্তির দুটি কপি করে দুজনেই একটি করে রাখুন।

Registration Act, 1908-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি ভাড়া চুক্তি রেজিস্ট্রেশনযোগ্য। মূল আইনের ভাষা দেখতে Laws of Bangladesh দেখুন।

যেসব ভুলে সবচেয়ে বেশি বিরোধ হয়

বিরোধ হয় না জটিল কারণে, হয় সাধারণ অবহেলায়। নিচের ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

  • মৌখিক চুক্তি করে টাকা লেনদেন
  • ডিপোজিট ফেরতের শর্ত না লেখা
  • ইউটিলিটির দায় কার, তা অস্পষ্ট রাখা
  • শুরুর অবস্থার ছবি বা ইনভেন্টরি না রাখা
  • নোটিশ পিরিয়ড বাদ দেওয়া
  • রেজিস্ট্রেশন এড়িয়ে যাওয়া
  • চুক্তির কপি আর ভাড়ার রসিদ না রাখা
  • জুরিসডিকশন না লেখা, ফলে কোথায় মামলা করবেন বুঝতে না পারা

আরেকটি বড় ফাঁদ হলো জবরদস্তিমূলক শর্ত। যেমন বাড়িওয়ালার পূর্ব অনুমতি ছাড়া মেরামত নিষিদ্ধ করা, অথবা একতরফা ভাড়া বাড়ানোর অধিকার রাখা। এমন ধারা থাকলে ভাড়াটিয়ার "শান্ত ভোগ" (Quiet Enjoyment) ব্যাহত হয়।

সই করার আগেই এগুলো নিয়ে কথা বলুন।

স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন আর আইনি বৈধতা: কখন আইনজীবী লাগবে

কাগজে সই করাই যথেষ্ট নয়। Stamp Act, 1899 অনুযায়ী নির্ধারিত স্ট্যাম্পে চুক্তি লিখতে হয়। এরপর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।

২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রচলিত নিয়মে এক বছরের বেশি মেয়াদের চুক্তিতে এই ধাপ বাধ্যতামূলক।

সহজ ক্ষেত্রে আপনি নিজেই খসড়া করতে পারেন। তবে টাইপ করা টেমপ্লেট হুবহু ব্যবহার করবেন না। আপনার ফ্ল্যাট, মিটার আর পরিবারের গল্প আলাদা।

আইনজীবী লাগবে কখন? যদি কমার্শিয়াল স্পেস হয়, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যুক্ত হয়, বা প্রবাসী মালিকের পক্ষে কেউ সই করে। এছাড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়লে আইনি নোটিশ বা উচ্ছেদ মামলার আগে অবশ্যই পরামর্শ নিন।

স্ট্যাম্প আর রেজিস্ট্রেশন ফি তুলে নেয় National Board of Revenue। হালনাগাদ হার জানতে NBR দেখুন।

বাসা ভাড়ার চুক্তি কেন করা বাধ্যতামূলক? 🏠📜 বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়ের আইনি সুরক্ষা!via Ain Kanun – আইন কানুন

সচরাচর জিজ্ঞাসা

মাসিক ভাড়ার রসিদ রাখা কি বাধ্যতামূলক?

বাধ্যতামূলক নয়, তবে নিজের স্বার্থে রাখুন। বাড়িওয়ালা রসিদ দিতে না চাইলে ব্যাংক বা bKash ট্রানজেকশন রেকর্ড রাখুন। পরিশোধের প্রমাণ ভবিষ্যতের বিরোধে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।

সিকিউরিটি ডিপোজিট সাধারণত কত হয়?

বাংলাদেশে প্রচলিত প্রথায় ১ থেকে ৩ মাসের ভাড়া। কিছু এলাকায় ব্যাচেলর বা কমার্শিয়াল স্পেসে এর চেয়ে বেশি চাওয়া হয়। চুক্তিতে ফেরতের সময়সীমা লিখে না রাখলে পরে টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ ঝামেলা হয়।

ভাড়া বছর শেষে কত বাড়ানো যায়?

কোনো নির্দিষ্ট সীমা আইনে নেই। তাই চুক্তিতেই হার ঠিক করুন। সাধারণত বার্ষিক ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়।

মৌখিক সমঝোতা থাকলেও কাগজে লিখুন।

চুক্তি রেজিস্ট্রেশন না করলে কী ক্ষতি?

আদালতে দলিলের প্রমাণযোগ্যতা দুর্বল হয়ে যায়। মুখে বলা শর্ত প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। তাই টাকা বাঁচাতে গিয়ে ঝুঁকি বাড়াবেন না।

বাড়িওয়ালা হঠাৎ বাড়ি খালি করতে বললে কী করবেন?

চুক্তির নোটিশ পিরিয়ড দেখুন। সময় না দিলে লিখিত নোটিশ পাঠান এবং কপি সংরক্ষণ করুন। সমাধান না হলে আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি নোটিশ দেওয়া যায়।

মৌখিক ভাড়া চুক্তি বৈধ?

বৈধ হতে পারে, তবে প্রমাণ করা কঠিন। টাকা জমা, রসিদ বা মেসেজ প্রমাণ হিসেবে টিকতে পারে। তবু লিখিত চুক্তির বিকল্প নেই।

Chris Nolan is the founder and lead technology editor at TechBink. With over a decade of hands-on experience in consumer electronics, mobile operating systems (Android & iOS), and PC hardware troubleshooting, he tests and benchmarks tutorials directly on real physical devices. Chris specializes in display technology (portable monitors, Mini-LEDs, HDR), Windows 11 system policies, and practical AI workflows.

Share.

Similar Posts

Share